OrdinaryITPostAd

উচ্চ রক্তচাপ কি? ওষুধ ছাড়া কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়

 উচ্চ রক্তচাপ কি :

বয়স যত বাড়তে থাকে হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়তে থাকে যাদের সিস্টোলিক  রক্তচাপ ১২০ মিলিমিটার অফ মার্কারির কম এবংদ্য স্টোলিক চাপ আঁটি মিলিমিটার অফ মার্কারের কম তাদের উত্তর সাব জনিত মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন। তবে জটিলতা সৃষ্টির দিক দিয়ে সৃষ্টা লীগ প্রেসারের চেয়ে ডায়েস্টলিক প্রেসার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাদের রক্তচাপ হাই নরমাল অর্থাৎ উচ্চ স্বাভাবিক তাদের অদূর ভবিষ্যতে হাইপার টেনশন নিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি 


এমন একটা সময় ছিল যখন একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের রক্তচাপ ১৬০/৯৫ এর উপরে না হলে কোন চিকিৎসা দেওয়া হতো না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনও ছিল প্রায় একই রকমের। কিন্তু ১৯৯২ সাল থেকে এই থিওরির পরিবর্তন ঘটে যায়।ট্রিটমেন্ট অফ মাইন্ড হাইপারটেনশন ট্রায়ালের দেখা যায় যে যাদের রক্তচাপ ১৪০/ ৯০ এর বেশি তাদের চিকিৎসা দরকার।  ১৯৯৩ সালে আর্কাইভ অফ মেডিসিন এ প্রকাশিত আমেরিকান ফ্রেন্ড ন্যাশনাল কমিটির রিপোর্ট একই অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

 যাদের রক্তচাপ 140 / 90 এর এবং ১৬০ / ৯৫ মিলিমিটার অফ মার্কারি মধ্যে তারা যদি নিয়ম হতে চিকিৎসা না করা হয় তবে হৃদরোগ স্ট্রোক ইত্যাদির সংখ্যা বেড়ে যায়। হাইপারট টেশন একটি নিঃশব্দ আততায়ী।  কোন প্রকার মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি না করেও এ অসুখ দেহের ছোট ছোট ক্ষতি করতে পারে। যাদের রক্তচাপ অধিকাংশ সময় ১৪০/ ৯০ এর উপরে থাকে তাদের হৃদপিণ্ডের দেয়াল ক্রমশ মোটা হয়ে যেতে থাকে।

 রক্তনালির গাত্র পুরো হয়ে যেতে পারে এবং ইসিজিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। রোগী সত্যিই ও রক্ত চাপে ভুগছে কিনা তা নির্ভুল নির্ণয় করা উচিত শুধু একবার রক্তচাপ মেপে হাইপার টেনশন ডায়গনোসিস করা ঠিক নয়। এত অপ্রয়োজনে আমার চিকিৎসার। সম্ভাবনা আছে। রক্তচাপ মাপার আগে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট রোগীকে বিশ্রাম নিতে হবে। রক্তচাপ মাপার আগে আধ ঘন্টার মধ্যে সিগারেট চা-ক অথবা অন্য কোন ক্যাথেন জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা।

 রোগী এবং ডাক্তারের আসথার জন্য মার্কারের ম্যানোমিটার যন্ত্র অপেক্ষাকৃত শ্রেয়। দুই মিনিট অন্তর কমপক্ষে দু'বার রক্তচাপ মেপে দেখা উচি। যদি প্রাথমিক পরীক্ষায় রক্তচাপ বেশি থাকে তবে দুই এক সপ্তাহ পরে আরো দুবার রক্তচাপ মেপে রোগ নিশ্চিত করা উচিত । যদি প্রথম পরীক্ষাতে রক্তচাপ 210/120 মিলিমিটার অফ মার্কারের বেশি থাকে তবে দ্বিতীয়বার রক্তচাপ মাপার দরকার নেই। এমন অনেক রোগী আছে যাদের রক্তচাপ সব সময় বেশি থাকে না তবে কখনো কখনো বেড়ে যায়।

 তাদের রোগ নির্ণয়ের জন্য এম্বুলেটর প্রেসার মনিটরিং দরকার হতে পারে এই যন্ত্রটি ২৪ ঘন্টার প্রেশার, তার গড় ও অস্বাভাবিক উঠানামা রেকর্ড করে রাখতে পারে। শুধু রোগ নির্ণয়ই নয় ওষুধের ডোজ বা মাত্রা নির্ধারণেও এ যন্ত্র ফলপ্রদ। এই ছোট যন্ত্রটি রোগীর দেহের সঙ্গে একদিনের জন্য সেটে দেওয়া হয়। ব্লাড প্রেসার রোগ সনাক্ত হওয়ার পর কয়েকটি পরীক্ষা নিরীক্ষা সব রোগের জন্যই প্রয়োজনীয়। এগুলো হলো রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তে গ্লুকোজ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম,ক্রিয়াটিনিন,  ইউরিক এসিড ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা। ইসেজিও বুকের এক্সরে  করাও দরকার। 

উচ্চ রক্তচাপ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় :

উচ্চ রক্তচাপে প্রাইমারি প্রিভেনশন নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। তবে যাদের রক্তচাপ নরমাল পর্যায় ভুক্ত, যাদের উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস আছে অথবা যারা ডায়াবেটিক কিংবা ধূমপানের অভ্যাস আছে তারা যদি স্বাস্থ্য সচেতন হয় তবে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায়। লবণ কম খেলে ওজন কমিয়ে ব্যায়াম করে এবং এলকোহলের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায়।

 শতকরা ষাট ভাগ হাইপারটেনশন লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড ফেনসিটিভ। যদি লবণ কম খাওয়া যায় তবে রক্তচাপ বাড়ার সম্ভাবনা কমে যায় রক্তচাপ শনাক্ত করার জন্য কমিউনিটি স্কিনিং  প্রোগ্রাম ফলপ্রদ। কারণ অনেক কিছু রক্ত চাপের আক্রান্ত রোগী জানেন না যে তারা এই রোগের ভুগছেন। যে সময় রোগ ধরা পড়ে তখন দেখা যায় হৃদপিন্ড অথবা মস্তিষ্কে ইতিমধ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত্ব রক্তচাপ থেকে মানুষের গড় আয়ু ১০ থেকে ২০ বছর কমে যায়। 

নন ফার্মা কোলজিক্যাল থেরাপি কি :

কোনরকম ওষুধ প্রয়োগ না করে রোগীর জীবনযাত্রা ও খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করে যে প্রক্রিয়ায় রক্তচাপ কমানো যায় তাকেল বলা হয় নন ফার্মাকোলজিক্যাল থেরাপি। অনেকে বলে থাকে লাইফস্টাইল মেডিফিকেশন। ধূমপান বন্ধ করে ওজন কমিয়ে মধ্যপানের অভ্যস্তদের মদের মাত্রা কমে লবণযুক্ত খাবার পরিহার করে প্রাণিজ তেল খাওয়া কমিয়ে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

মধু খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয় :

ভারতীয় আয়ুর্বেদ মতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সবচেয়ে উপকারী হল মধু। এক কাপ উষ্ণ গরম  পানিতে এক চা চামচ মধুর সঙ্গে ৫--১০ ফোটা আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে  খেতে পারলে রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। 

প্রতিদিন এক গ্লাস বিট জুস খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় :

 গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরোত্ত সাপ থেকে স্টক হার্ট অ্যাটাক ও ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি সৃষ্টি হয়ে থাকে। শরীরের টক্সিন দূর করতে বিট জুস ভূমিকা পালন করে থাকে । বিট জুস  খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। বিট জুস  শরীরে আয়রনের ঘাটতি কমায়। হার মজবুত করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কম শক্তি বৃদ্ধি করে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির সহ মানবদেহে সুস্থতার জন্য পরিক্ষিত কার্যকর বিধায় বিটজুসকে  সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে।  যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে চান, লিভার সুস্থ রাখতে চান, প্রতিদিন এক গ্লাস বিট জুসের শরবত পান করুন। 

সবুজ শাকসবজি খেলে উত্তরে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে :

অতিরিক্ত তেল আর মসলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, মসলাদার খাবারের বদলে পাতে বেশি করে রাখুন সবুজ শাকসবজি। সিদ্ধ বা সামান্য তেলে রান্না করা সবজি শরীরে ক্যালরির মাত্রা ধরে রাখে। ফাইবার সমৃদ্ধ সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম, ফোলেট থাকে।এসব উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে।

তরমুজ খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত রাখা যায় :

তরমুজে রয়েছে লাইকোপিন পটাশিয়াম ভিটামিন এ এবং ফাইবার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অ্যামাইনো এসিড এল-সিট রুলিন সমৃদ্ধ  তরমুজ শুধু উত্তর রক্তচাপ নয় শরীরের  নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত রাখতে কলা খান ঃ

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ডায়েটের এখন কলা কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পরার সিয়াম যার রক্তচাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দিনের যেকোনো সময়ে কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

কমলালেবু খেলে উত্তরে চাপ নিয়ন্ত্রণ  হয়:

পোস্টটি বৃদ্ধের মতে কামড়ালেবুর রসের সঙ্গে ডাবের পানি মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে দিনে ২ থেকে ৩ বার খেতে পারল রক্তচাপ্রত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ওটমিল খান ঃ

ওজন কমাতে এবং এনার্জি বাড়াতে ওটসের কোন বিকল্প নেই। কুষ্টিবিদরা সকালে অটোস খাওয়ারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন ওটসের সোডিয়াম এর মাত্রা খুব কম, তাছাড়া রয়েছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪