OrdinaryITPostAd

উচ্চ রক্তচাপ কি, কিভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

ভুমিকা  : উচ্চ রক্তচাপ আমাদের জন্য একটি মারাত্মক সমস্যা। যেকোনো সময় আপনি আক্রান্ত হতে পারেন এ রোগের তিনটি প্রধান টার্গেট হচ্ছে হৃৎপিণ্ড মস্তিষ্ক ও কিডনি। অনেক মানুষই ভুগছে উচ্চ রক্তচাপে এমন কি  25 বছর বয়সেও মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেনএখন। আর তা থেকে দেখা দিচ্ছে একাধিক মারাত্মিক প্রাণঘাতী রোগ। তাই প্রত্যেকের উচিৎ নিজেদের জীবনযাত্রা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া। উচ্চ রক্তচাপ  থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে রোগটি সম্পর্কে জানতে হবে। 


উচ্চ রক্তচাপ কি :

প্রতিবার হৃদস্পন্দনের মাধ্যমে রক্তকে ধাক্কা দিয়ে ধমনীর মাধ্যমে হৃদযন্ত্র শরীরের সবখানে রক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান  সরবরাহ করে থাকে

 রক্তের চাপ যখন ১৪০/ ৯০ এম এম এইচজি,তখনো রক্ত সরবরাহ করতে হৃদ যন্ত্র কে বেগ  পেতে হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে ধমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হৃদরোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। 

কিভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় :

নিঃশব্দে আমাদের শরীরে ভাষা বেধেছে উচ্চ  রক্তচাপ। মানুষের চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের ফলে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে উচ্চারণ চাপে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে শরীরে রক্তচাপ বাড়ার মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। জীবনযাত্রায় এবং খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন হতে পারলে ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবেন উচ্চ  রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মত সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব উপস্থা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারবেন তা নিচে আলোচনা করা হলো। 

লবণ কম খেয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা:

উচ্চ রক্তচাপ ঘুমাতে প্রথমে লবণ খাওয়া কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের প্রচুর পরিমাণ লবণ বা সোডিয়াম থাকে। এই খাবারগুলো আমরা সবাই কমবেশি খেয়ে থাকি যা যকৃত সামাল দেয় পানি ধরে রাখার মাধ্যমে। অতিরিক্ত লবণ রক্তে মিশে সোডিয়াম এর মাত্রা বাড়ায় এবং দেহে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায।  বাড়তে পারে কিডনির সমস্যা ও।রান্না ছাড়া কাঁচা লবণ এড়িয়ে চলুন।সম্ভব হলে রান্নাতেও যত সম্ভব লবণ কম দিন। 

শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় :

কায়িক  পরিশ্রম করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় নিয়মিত ব্যায়াম যেমন রক্তচাপ কমায় ঠিক তেমনি হৃদ রোগের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কামায়। যারা ব্যায়াম করেন না তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্ত হওয়া শতকরা ২0 থেকে ৫০ ভাগ বেশি থাকে।ব্যায়াম করলে সিস্টোলিক রক্ত চাপ কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার অব মার্কারি কমে যায়। জগিং সাইক্লিন দৌড়ানো কিংবা সাঁতার যে কোন ব্যায়ামই ফলপ্রদ কমে যায়।তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটায় যথেষ্ট। যেকোনো শারীরিক ব্যায়ামই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। 

শারীরিক ওজন কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় :

স্বাভাবিক এর চেয়ে শারীরিক ওজন অত্যাধিক বেশি অর্থাৎ স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। যে সমস্ত মহিলাদের ওয়েস্ট ও হিপের অনুপাত দশমিক ৮৫ এবং পুরুষের দশমিক ৯৫ এর বেশি তাদের উচ্চ রক্তচাপে  আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা  বেশি থাকে।স্থূল মানুষেরা যদি সাড়ে চার কিলোগ্রাম ওজন কমাতে পারে তবেই রক্তচাপ কমে যেতে শুরু করে।

 ওজন কমানো উচ্চ রক্তচাপে ব্যবহৃত ওষুধগুলোর কার্যক্ষমতা ও বৃদ্ধি করে। যাদের রক্তচাপ স্টেজ  ওয়ান পর্যায় ভুক্ত তাদের ওজন কমানো গেলে অনেক সময় রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে কোন ওষুধের দরকার হয় না। এই পর্যায়ে ভুক্ত রোগীদের ৩ থেকে ৬ মাস স্থূলতা কমানোর চেষ্টা করা উচিত। অনেক সময়ই দেখা যায় ওজন কমালে ছয় মাসের মধ্যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। 

ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করে উচ্চ  রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় :

 উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ধূমপান করা উচিত নয। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে করোনারি হার্ডডিজিতে আক্রান্ত হওয়ার আর বেশি ।  ধূমপান হৃদরোগের একটি রিস্ক ফ্যাক্ট। তাই উত্তর রক্ত চাপে আক্রান্ত রোগীদের ধূমপান করা উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগী যদি একই সঙ্গে রক্তচাপের ওষুধ খায় এবং ধূমপান করে তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয় ঠিকই কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমে না।

যারা ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে চান তারা যদি নিকোটিন পাঁচ ব্যবহার করেন তবেধুমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করা যায়।  ধূমপানের   নিয়মিত ধূমপান করলে এমনকি কালে ভদ্র ধূমপান করলেও তার রক্তচাপ বাড়ায়। মাত্র একটি সিগারেটে থাকা নিকোটিন  রক্তনালিকে সাময়িক সময়ের জন্য  সংকুচিত করে রাখে।এছাড়াও যে কোষ দিয়ে রক্তনালী তৈরি হয় সেগুলো ক্ষতি করে তামাক । 

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় :

খাদ্য নিয়ন্ত্রণ যদিও উচ্চ  রক্তচাপের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত নয় তবে খাদ্যের ফ্যাক্ট বা স্নেহ  জাতীয় পদার্থের আধিক্য হৃদরোগের একটি প্রধানতম কারণ। তাই যারা উচ্চ  রক্তচাপে ভুগছেন তাদের  প্রাণীর স্নেহ জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অতিরিক্ত তেল আর মসলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন মশলাদার খাবারের বদলে পাতে বেশি করে রাখুন সবুজ শাকসবজি। সিদ্ধ বা সামান্য তেলে রান্না করা সবজি শরীরে ক্যালরির মাত্রা ধরে রাখে ফাইবার সমৃদ্ধ সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ফলেট থাকে। এসব উপাদান রক্ত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 

রক্তচাপ কতটা কমানো উচিত? :

ওষুধ ব্যবহার বা অন্য কোন উপায়ে রক্তচাপ একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নামিয়ে আনতে হয়।সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিলিমিটার অব মার্কারির নিচে এবং ডায়াস্তোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার অফ মার্কারি নিচে নামিয়ে আনা উচিত।রক্তচাপ  ১৩০/৮৫ এর নিচে নামানো উচিত কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। 

লেখক এর কথা :

নিঃশব্দে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ। কারণ জানা থাকলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব হতে পারে অনেক মানুষই ভুগছে  রক্ত চাপে। এমন কি পচিশ বছর বয়সের মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে না এখন আর তা থেকে দেখা দিচ্ছে একাধিক মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। 

তাই প্রত্যেকের উচিত নিজেদের জীবনযাত্রা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া ।

আমার এই তথ্যসমুহ  যদি আপনাদের কোন উপকারে আসে তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। আমার এ তথ্যসমুহ যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনারা আপনাদের নিজস্বআত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করলে তারা উপকৃত হবেন।

 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪