OrdinaryITPostAd

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব সূচক খেতাব বা উপাধি কয়টি ও কি কি

 বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বসূচক উপাধি চার পর্বে বিভক্ত। যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ , বীর উত্তম, বীর বিক্রম, এবং বীর প্রতীক।  স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার হল বীরশ্রেষ্ঠ।মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্

প্রদর্শনের জন্য  সর্বমোট ৬৭৭ জনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয

ভুমিকা : ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তা ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মধ্যে দিয়ে এর চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে প্রবাহমান ধারায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। ৩০ লাখ শহীদের রক্তদানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীনতা 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা :

১. বীরশ্রেষ্ঠ ------- ৭ জন

২. বীর উত্তম ------ ৬৯ জন

৩. বীর বিক্রম ------১৭৫ জন  

৪. বীর প্রতীক -------৪২৬ জন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব বিশিষ্ট উপাধি প্রাপ্তদের নাম যথাক্রমে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর জোন লিডার ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ হামিদুর রহমান ফাইট লেফটনেত মতিউর রহমান সিপাহী মোস্তফা কামাল লেন্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ 

ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ :

জন্মস্থান :ল্যান্স  নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালে ৮ই মে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

কর্মস্থল :(ইপি আর)

 ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস 


পদবী :ল্যান্স নায়েক 

সেক্টর : ল্যান্সনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ 1 নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। 

যেভাবে শহীদ হন :

রাঙ্গামাটি ও মহালছড়ির সংযোগ পথ নানিয়ার স্যার উপজেলার বুড়িমারী এলাকায় চিংড়িখালের দুপাশের নির্মিত প্রতিরক্ষা গুহ কক্ষনো রাখতে গিয়ে হানাদার বাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে মটারের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ রাইফেলসের সদস্য ছিলেন।  তার কবর রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে, এটি ১৯৭৬ সালের দোয়েল চন্দ্র চাকমা নামে এক আদিবাসী সনাক্ত করেন। 

মৃত্যু : ১৯৭১ সালের ২০ এ এপ্রিল শহীদ হন ল্যান্স নায়ক মুন্সি আব্দুর রউফ। 


সিপাহী মোস্তফা কামাল :

জন্মস্থান :সিপাহী মোস্তফা কামাল ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে মোটোপি গ্রামে আলিনগর ভোলা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

পদবি : বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল সিপাহী। 

সেক্টর : সিপাহী মোস্তফা কামাল দুই নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। 

কর্মস্থল : সিপাহী মোস্তফা কামালের কর্মস্থল ছিল সেনাবাহিনী। 

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :  সিপাহী মোস্তফা কামাল ১৯৭১ সালে ১৮ই এপ্রিল আখাউড়া দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের উত্তরের দূরবীন গ্রামে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান প্রতিহত করতে গিয়ে শহিদ হন।তার কবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আছাড়োয়ায় মোগল গ্রামে অবস্থিত।


ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান :

জন্মস্থান : বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মস্থান ঢাকায় ১৯৪১ সালে। 

পদবি : বীরশ্রেষ্ঠ  মতিউর রহমানের পদবি ছিল লেফটেন্যান্ট। 

কর্মস্থল : বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 


যেভাবে শহীদ হন :

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শুরু হবার পর দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিমান সমর্থন দেবার চিন্তা করতে থাকেন।  সুযোগ বুঝে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মরিপুর ঘাটি থেকে একটি টি ৩৩ জঙ্গি বিমান নিয়ে পালিয়ে আসার সময় সহযাত্রী রশিদ মিনহাজ এর সাথে ধস্তাধস্তি  সময় সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ভারত সীমান্তবর্তী বৃন্দা গ্রামের শহীদ হন। 

সমাধি : পাকিস্তানের করাচির মাশরুর বিমান ঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ সরকার চব্বিশ জন 2006 সালে মতিউর রহমানের দেহাবো শেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং ২৪ জন মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সমাহিত করেন। 

চলচ্চিত্র : মতিউর রহমানের উপর ভিত্তি করে যে ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে তার নাম অস্তিত্বে আমার দেশ। 

ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর :

জন্মস্থান :

 মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন । 

পদবি ::বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর পদবী ছিল ক্যাপ্টেন। 


 

কর্মস্থল :

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কর্মস্থল ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী 

যে সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন

সাত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। 

যেভাবে শহীদ হন

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাত নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী এর আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  ১৪ ই ডিসেম্বর পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন।   পাকবাহিনী অবস্থা বেগতিক দেখে পিসু হটতে থাকে এবংমুক্তিবাহিনী পলায়নরত পাক-বাহিনীকে ধাওয়া করে। আত্ম রক্ষার্থে পাল্টা আক্রমণ চলাকালে পাক বাহিনীর একটি বুলেট কপালে বৃদ্ধস্ত হয় এবং তিনি শহীদ হন। 

সমাধি : 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে তাকে সম্মানিত করা হয়।বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে তিনি  সবশেষে শহীদ হন। 

সিপাহী হামিদুর রহমান :

 জন্মস্থান :  সিপাহী হামিদুর রহমান 2 ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে ডুমুরিয়া গ্রাম চাপরা ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গের জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঝিনাইদহ জেলায় মহেশপুর থানায় খোরদা খালিশপুর বর্তমানে হামিদনগর গ্রামে সাইবার বসবাস শুরু করেন।


কর্মস্থল :বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। 

পদবি :

 হামিদুর রহমানের শি্পাহী

সেক্টর :

বিশিষ্ট হামিদুর রহমান চার নম্বর সেক্টরে যুদ্ধরত ছিলেন। 

যেভাবে শহীদ হন : 

একদিনের জন্য তিনি মায়ের সাথে দেখা করতে আসেন ফিরে গিয়ে চার নম্বর সেক্টরে মৌলভীবাজার কমলাগঞ্জে মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্ত যুদ্ধ করেন এবং বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন তিনি বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। 

সমাধি :

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমের ছড়া গ্রামের তাকে সময় দিতে করা হয়েছিল পরবর্তীতে ৩৬ বছর পর দশ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে তার দেহাবো শেষ বাংলাদেশের নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে তাকে মিরপুর শহীদ বৃদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। 

বীরশ্রেষ্ঠ লান্স  নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ :

জন্মস্থান :

বীরশ্রেষ্ঠ লেন্স নায়ক নূর মোহাম্মদ শেখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ সালে নড়াইল সদর উপজেলায় মহেশখলা বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদ নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

কর্মস্থল :

ইপিআর ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস 


পদবি : নায়েক 

সেক্টর : বীরশ্রেষ্ঠ লেন্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ৮ নম্বর সেক্টরের যুদ্ধ করেছিলেন। 

যেভাবে শহীদ হন :

৮ নম্বর সেক্টর স্থায়ী দহলে নিয়োজিত থাকার সময় যশোরের গোয়ালহাটি এলাকায় 1971 সালে 5 সেপ্টেম্বর পায়খানাদার বাহিনীর কর্তৃক ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পড়েন।  সঙ্গীদের  বাঁচাতে গিয়ে একাকী পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সঙ্গীদের  পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এবং হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। 

সমাধি :

যশোরের শর্মা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। 

বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমি :

 জন্মস্থান :রুহুল আমিন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানায় 

ডিউটির বাকপাচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন 

পদবি : স্কোয়াড্রোন ইঞ্জিনিয়ার।

কর্মস্থল :বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন 

সেক্টর :তিনি দুই নাম্বার এবং 10 নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। 

মৃত্যু :

১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন

যেভাবে শহীদ হন :বিএনএস পর্দায় মুক্তি বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধকালীন ভুলক্রমে ভারতে বিমান বাহিনীর গুলির মুখে পড়েন গলির কারণে জাহাজ ও আগুন ধরে জাহাজের গোলাবারুদ পড়তে শুরু করলে তিনি নদীতে ঝাপ দেন উপকূলে এলাকার পরে রাজাকাদের হাতে বুলেট বিধ্বস্ত হন এবং ধরা পড়ে। রাজাকারদের ও মানসিক রে যাতনের তিনি শহীদ হন । 

সমাধি :তাকে রূপসা উপজেলায় রূপসা বাসস্ট্যান্ডের পাশে নদীর তীরে সময় তো করা হয় 

শেষ কথা :

বাংলাদেশ স্বাধীনতার নেপথ্যেবীরশ্রেষ্ঠদের  অবদান অপরিসীম জাতি তাই তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে চিরকাল। বীরত্তম বীর বিক্রম বীর প্রতীক সহ আরো এছাড়াও আরো বাংলাদেশের সাধারণ জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের স্মরণ করবে জাতি। ৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪